![]() |
| ফ্রিটসেলের বাসভবন |
একজন সফল মানুষ জোসেফ ফ্রিটসেল। পেশায় বিদ্যুৎ প্রকৌশলি। ছিমছাম আর সাজানো গোছানো পরিবারের কর্তা । তার স্ত্রী রোজম্যারি এমন একজন স্বামী পেয়ে বেশ সুখি । স্বর্গীয় মায়ায় ঘেরা অস্ট্রিয়ার এ্যামস্টেটান শহরে ছবির মত সুন্দর একটি বাড়িতে সন্তানদের মমতা আর অলস স্নিগ্ধতায় গড়িয়ে যাচ্ছিল দিনগুলো । হঠাৎ একটি ঘটনা বদলে দিল অনেক কিছু। জোসেফের ১৮ বছর বয়সী মেয়ে এলিজাবেথ হারিয়ে গেল কোথায় যেন! পত্রিকা টিভিতে জানান দেয়া হল। পুলিশ স্টেশনগুলোতে খবর ছড়িয়ে পড়ল । তবুও খুঁজে পাওয়া গেল না এলিজাবেথকে। মা রোজম্যারি ব্যথিত হন। জোসেফের পরিবারে ছায়া হয়ে থাকে এক নিরবচ্ছিন্ন শোক।
কোন এক উষার অননুভূত শূন্যতায় বারান্দার মেঝেতে একটি চিঠি পড়ে থাকতে দেখে রোজম্যারি। তাঁর গাল বেয়ে অশ্রু নেমে এল । এ ত এলিজাবাথের চিঠি! কাঁপা হাতে চিঠিটি খুললেন তিনি। হৃদয়ের আবদ্ধ জানালায় অনেক্ষণ ধরে মেয়ে এলিজাবেথের কণ্ঠ শোনা গেল “ মা আমি আর আসব না........”। রোজম্যারি চোখ মুছলেন।
এভাবে বছরের পর বছর কেটে গেল জোসেফ আর রোজম্যারির। গভীর ক্ষত নিয়ে অনন্ত অপেক্ষায় পড়ে রইল তাদের বার্ধক্য । তাদের ধারণা ভুল বুঝতে পেরে মেয়ে এলিজাবেথ একদিন ফিরে আসবেই!
স্বর্গের গভীরে পাতাল নরক
জোসেফের সুন্দর বাগান বাড়িটির নিচেই ছিল একটি কুঠুরি। সদর দরজা থেকে কিছুটা দূরে। বিদ্যুৎ প্রকৌশলী জোসেফ ফ্রিটসেল প্রতিদিন সকাল ৯ টায় সেখানে নেমে আসতেন গবেষণার নিমিত্তে। কখন কখন রাত কাটাতেন বেইসমেন্টের সেই কুঠুরিতে। তিনি একজন প্রকৌশলি। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তার দরকার নির্জন ও গভীর গবেষণা। সেকারণে পাতাল কুঠুরিতে তিনি তার স্ত্রী কন্যা কাউকে প্রবেশ করার অনুমতি দেন নি। সবাই জানত এ পাতাল কুঠুরী শুধু জোসেফ ফ্রিটসেলের জন্য।
হারিয়ে যাওয়া এলিজাবেথ
সেই কুঠুরীর অন্ধকার কখন কখন জেগে উঠত ভয়ংকর আর নির্মম এক পৈশাচিকতায় । মা রোজম্যারি যখন হারান মেয়ের শোকে অপেক্ষমান তখন ফ্রিটসেল প্রতিদিন রাতে তার নিজের মেয়ে এলিজাবেথকে ধর্ষন করত। বছরের পর বছর কেটে গেল এভাবেই।
ফ্রিটসেলের ঔরসে নিজ মেয়ে এলিজাবেথের গর্ভে জন্ম নেয় সাত জন সন্তানের। এ এক বিভৎস ঘটনা। দীর্ঘ ২৪ বছর নরকের অন্ধকুপে নিজ বাবার হাতে ধর্ষিত হয় এলিজাবেথ। নরকের অন্ধকার খুপরিতে এভাবেই অতিক্রান্ত হয় এই উৎসবমুখর পৃথিবীর দুই যুগ। দীর্ঘ এ অতিক্রান্তিতে একটি বারের জন্যও দিনের আলো দেখার সৌভাগ্য হয়নি হতভাগী এলিজাবেথের।
এলিজাবেথ এখন কোথায় ?
এলিজাবেথের বয়স এখন ৪৩। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও ভারসাম্যহীন এলিজাবাথকে তার সন্তানসহ বিশেষ তত্বাবধানে রাখা হয়েছে সরকার পরিচালিত একটি নিরাময় কেন্দ্রে । নার্সদের কাছ থেকে জানা যায়, তার সন্তানরা প্রায় সময় মাঝরাতে বিকট চিৎকার দিয়ে জেগে ওঠে। বিভৎস বাস্তব তাদের কাছে স্বপ্ন হয়ে ফিরে আসে বারবার। যে কামরাগুলোতে এখন তাঁরা থাকছে তার সবগুলো দরজা জানালা সারাক্ষণ খুলে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ডাক্তাররা। প্রতিটি সকাল তাদের জন্য এক অচেনা জগত। জন্মের পর পৃথিবীর আলো এই প্রথম দেখছে তারা । সূর্য, সকাল, পাখির কলরব এ সবকিছুর সাথেই অপরিচিত কয়েকজন ভিনগ্রহী শিশু । পাতাল নরকের অন্ধকার কুঠুরি থেকে বেরিয়ে ঝলমলে পৃথিবীর দিকে অভিভূত বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে এলিজাবেথের সন্তানরা।
ডয়েচে ভেলের রিপোর্ট:
নিজ কন্যাকে ধর্ষণের অপরাধ স্বীকার করেছেন ফ্রিৎসেল
![]() |
| শয়তান উপাসক ঘৃণ্য ফ্রিটসেল |
অস্ট্রিয়ার আমসটেটেন শহরের ৭৩ বছর বয়সি ফ্রিৎসেলকে সোমবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয় ৷ জনাকীর্ণ আদালতে ফ্রিৎসেল সন্তান হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন ৷ তবে তিনি নিজ কন্যাকে জোর করে মাটির নীচের কুঠুরিতে আটকে রাখা ও ধর্ষণের অপরাধ স্বীকার করেছেন ৷
এলিজাবেথ তাদের বাড়ির ভূ-গর্ভস্থ ঘরে ২৪ বছর অতিবাহিত করে। এলিজাবেথের বয়স বর্তমানে ৪৩ বছর। তাঁকে ১৯৮৪ সালের ২৯ আগষ্ট থেকে ঐ ভূগর্ভস্থ ঘরে আটকে রাখা হয়। ৪০ বর্গ মিটারের ঐ ঘরে আলো-বাতাস প্রবেশের কোন জানালা নেই, গরম পানি, বা ঘর গরম করারও কোন ব্যবস্থা নেই, বলে জানান মামলার প্রধান কৌঁসুলি। এলিজাবেথ সেই বদ্ধ ঘরে অন্য কারো সাহায্য ছাড়াই সাতটি বাচ্চা জন্ম দেয়। এদের মধ্যে তিন সন্তানকে ফ্রিৎসেল ও তার স্ত্রী রোজম্যারি উপরে নিয়ে নিজের বাড়িতে লালন পালন করে। এদের রাস্তা থেকে কুড়িয়ে এনেছেন বলে ফ্রিৎসেল রোযাম্যারী কে জানায়। পুলিশ বলছে, স্ত্রী রোজম্যারি তাঁর স্বামীর এসব কার্যকলাপ সম্পর্কে কিছু জানতেন না। এলিজাবেথকে দিয়ে জোর করে চিঠি লিখায় ফ্রিৎসেল। সে চিঠিটি পরে রোজম্যারী ভাবেন এলিজাবেথ হয়ত অস্ট্রিয়ার কোথায় বাস করছে।
এলিজাবেথের সপ্তম সন্তান জন্মের পরই সেখানে মারা যায়। সে বছরের এপ্রিল মাসে এলিজাবেথের মেয়ে কেয়ার্স্টিন অসুস্থ হয়ে পড়লে ফ্রিৎসেল তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এর ফলে ঘটনা জানাজানি হয়ে যায়। ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়ালে গত বছর ২৬ এপ্রিল অবসরপ্রাপ্ত বিদ্যুৎ প্রকৌশলী ফ্রিৎসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফ্রিৎসেলের বিরুদ্ধে কন্যার সাথে যৌনাচার, কন্যাকে জোর করে আটকে রেখে দাসী বানিয়ে রাখা, ধর্ষণ, নির্যাতন এবং হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তাঁর আইনজীবী রুডল্ফ মায়ার বলেছেন, ফ্রিৎসেল মনে করেন, তাঁর ভুল হয়েছে এবং এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন৷ মানসিকভাবে তিনি বেশ ভেঙ্গে পড়েছেন।
![]() |
| রোজম্যারী; এলিজাবেথের মা |
________________________________________
সপ্তাহান্তে চোখ রাখুন www.chokrojal.tk প্রতি শুক্রবার 12:00 AM
সপ্তাহান্তে চোখ রাখুন www.chokrojal.tk প্রতি শুক্রবার 12:00 AM






নাউজুবিল্লাহ-মিন-জালেক
ReplyDelete