satan hell request flame pictures, backgrounds and images


(শয়তান বলল) “ এরপর আমি তাদের (মানুষদের) কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন..” কোরআন:৭:১৭


শয়তান তোমাদের অনেক দলকে পথভ্রষ্ট করেছে। তবুও কি তোমরা বুঝনি? ইয়াসিন: ২৬

Friday, August 27, 2010

শয়তানের চক্রজাল ২: অসুস্থ প্রেম ও বিকৃত স্বপ্ন


পৃথিবীর অমিমাংসিত রহস্যময় ঘটনাগুলো নিয়ে যাত্রা শুরু করছে চক্রজাল অনলাইন সিরিজ । পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া অমিমাংসিত ঘটনাগুলো এ সিরিজে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে। চক্রজালে এসব অমিমাংসিত ঘটনার রহস্য উন্মোচন ও মানুষের উপর শয়তানের প্রভাবচক্র সম্পর্কে তথ্য বেড়িয়ে আসবে । সিরিজটিতে যেসব ঘটনা তুলে ধরা হবে সেগুলো প্রীতিকর নয়। কোন কোন সময় নৃশংস। তাই দুর্বল চিত্ত ও সংবেদনশীলদের সিরিজটি এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ রইল।
 ⎝⏠⏝⏠⎠
অসুস্থ প্রেম ও বিকৃত স্বপ্ন

রাজীবের সাথে হালিমার পরিচয় দেড় বছর হয়ে গেছে। ব্যাপারটি হালিমার স্বামী ফারুক ঘুনাক্ষরেও টের পায় নি। ফারুক মিরপুরের মুদি  দোকনীর মালিক। সকালে বের হয় রাতে ঘরে ফেরে। এই সুযোগে খালি ঘরে চলতে থাকে রাজীব ও হালিমার অসুস্থ প্রেম। প্রতিদিন হিন্দি সিরিয়াল দেখার সময় হালিমা স্বপ্ন দেখত এক মাচো ম্যান অর্থাৎ এক পূর্ণ পুরুষের। তার স্বামী মুদি দোকানী ফারুখ কোনভাবেই খাপ খেত না তার কল্পিত হিন্দি সিরিয়ালের মাচো ম্যানের সাথে। কিন্তু হঠাৎ একদিন সেই পুরুষের প্রতিচ্ছায়ায় রাজীব আবির্ভুত হল হালিমার জীবনে। হালিমা রাজীব কে নিয়ে এক গভীর ইন্দ্রীয়পরায়নতার জগতে ডুব দেয়। তখন থেকেই তার ব্রেনের প্রতিটি সেল রাজীব কে নিয়ে স্বপ্ন বুনতে আরম্ভ করে।

বিতারিত শয়তান হালিমা, রাজীব ও ছোট্ট তানহাকে নিয়ে এক গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করা আরম্ভ করে।

তানহা হালিমার আড়াই বছরী ছোট্ট মেয়ে। মুদি দোকান ফারুখ যখন ব্যবসায় ব্যস্ত, তখন রাজীব হালিমার সাথে তার ফ্ল্যাটে দেখা করত, প্রতিদিন। হালিমার আড়াই বছর বয়সি মেয়েটির জন্য রাজীবের হাতে থাকত চকোলেট, খেলনা ইত্যাদি। হালিমার মন রাজীবকে নিয়ে আচ্ছন্ন। মুদি দোকানীকে বাদ দিয়ে এবার হিন্দি সিরিয়ালের মাচো ম্যানের মূর্ত প্রতিক রাজীবের সাথে ঘর করার স্বপ্ন দেখে হালিমা। অভিশপ্ত শয়তান ভীষণ খুশি হয়। সে হালিমাকে এবার নতুন উদ্যেমে প্ররোচনা বা ওসওসা দিতে থাকে। মাচো ম্যান রাজীবের পরামর্শে হালিমা তার স্বামী ফারুকের ড্রয়ার থেকে এক লাখ টাকা ও স্বর্ণের অলংকার চুরি করে। শেষতক মাচো ম্যান রাজীবকে নিয়ে পালায় হালিমা। সাথে থাকে তার তিন বছরী মেয়ে তানহা। নিষ্পাপ তানহা রাজীব আঙ্কেলসহ তার মা কে দেখতে পেয়ে  খুশি হয়। দুপুর। হালিমা, রাজীব আর তানহা পাঁচ তলার ছাদের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে হিন্দি সিরিয়ালজনিত স্বপ্নের গোরাপত্তন করে।
বিতারিত শয়তানের জন্য তার চূড়ান্ত পরিকল্পনা ফলিয়ে তোলার দারুন সুযোগ আসল। সে হালিমা ও রাজীবের মনে ক্রমাগত প্ররোচনা বা ওসওসা দিতে থাকে।
এবার হালিমা ও রাজীব ছোট্ট মেয়ে তানহাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেবার ফন্দি আটে। সব কিছু নতুন করে শুরু করার জন্য বিভোর হয়ে ওঠে তারা দুজন। প্রচণ্ড ঘোর চেপে বসে হালিমার উপর; তানহাকে সরাতেই হবে! যে করেই হোক ! 

⎠⎠⏠⏝⏠⎝⎝
তানহার লাশ পড়ে থাকতে দেখে বিতারিত শয়তান খুশি হয়। সে বুঝতে পারে তানহা ও রাজীব এখন পুরোপুরি তার কব্জায়। সব কিছু এখন তার হাতের কব্জায় টের পেয়ে  ধূর্ত শয়তান তার শেষ ওসওসাটি হালিমা ও রাজীবের কানে ঢেলে দেয়।
হালিমা ও রাজীব আপ্রাণ চেষ্টা করে তানহার লাশটিকে জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দিতে। কিন্তু গ্রিলের ফাক দিয়ে ঢুকছিল না সেটি। এবার বটি দিয়ে কেটে কেটে স্লাইস করা হল মরদেহটি। দুপাশ কেটে চিকন করা হল তানহার মাথা। এইবার জানালা প্রতিবাদ করল না। কিন্তু লাশ খন্ডগুলো নর্দমায় না পড়ে আটকে রইলো বাড়ির সান শেডে!
বিতারিত শয়তান বুঝতে পারল হালিমা আর রাজীবকে নিয়ে তার কাজ শেষ হয়ে গেছে। হালিমাকে হিন্দি সিরিয়াল দেখানো থেকে তিন বছর বয়সী তানহার লাশ কেটে নর্দমায় ফেলে দেওয়ার পুরো কাজটি তার সফল হয়েছে।  বিকৃত আনন্দে শয়তান দ্রুত হালিমা ও রাজীবকে ত্যাগ করল।

হঠাৎ ঘোর কেটে গেল রাজীব আর হালিমার। বুঝতে পারল ভয়ংকর একটি ভুল হয়ে গেছে। তাদের বিকৃত ও অসুস্থ যৌনাচার নষ্ট করেছে সব। নিজের উপর ঘেন্না আসতে লাগল হালিমার। সব কিছু মনে করে বমি বমি লাগল তার।
সব স্বপ্নের মায়া ত্যাগ করে পশু  রাজীব হঠাৎ করে  নিরুদ্দেশ হয়ে গেল।


পত্রিকার রিপোর্ট:
জানালা দিয়ে ফেলতে জেনিফার মাথার দু’পাশে কাটা হয়

ঘাতক হালিমা
বকুল আহমেদ: জানালার গ্রিলে ফাঁক ৬ ইঞ্চি। এ ফাক গলে সাড়ে ৩ বছর বয়সী শিশু তানহা ইসলাম জেনিফার লাশ নিচে ফেলা সহজ ছিলো না। তাই খুন করার পর জেনিফার মাথার দুপাশে কেটে ও পাঁজরের হাড় ভেঙে ফেলে দেয়া হয়।
তবে সানশেডে আটকে যায় লাশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর এ কথা বলেছেন খিলগাঁও থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আসলাম হোসেন। তিনি অবশ্য বলেছেন, জেনিফাকে খুন করে সানশেডে লাশ ফেলা নিয়ে অসংলগ্ন কথা বলছেন মা হালিমা ইয়াসমিন। একবার বলছেন, তাকে শ্বাসরোধ করে মেরেছে রাজীব। আরেকবার বলেছেন, আমি লাশ দেখিনি। কখনও বা বলেছেন, সারাদিন লাশ নিয়ে বসে ছিলাম, রাতে রাজীব এসে লাশ জানালা দিয়ে ফেলে দেয়। পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে বলা হয়েছে, লাশের মাথার দুপাশে বঁটি দিয়ে কাটা হয়েছে। পাঁজরের হাড় ভেঙে ছোট করা হয়। গ্রিলে মাথার চুল ও রক্ত জমাট বাঁধা ছিল। গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। সেটি চেনার কোন উপায় ছিল না। সন্তান খুনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হালিমাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। বুধবার মধ্যরাতে পলাতক রাজীবের ভাই সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে। রাজীবকে খুঁজছে পুলিশ। ওদিকে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল সন্ধ্যায় জেনিফার লাশ মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার কবরস্থানে দাফন করা হয়। ২৭শে জুলাই দুপুরে জেনিফাকে সঙ্গে নিয়ে মিরপুরের স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে আসে হালিমা। সাড়ে সাত ভরি সোনার গহনা, এক লাখ টাকা ও জমির দলিল নিয়ে ওঠে পরকীয়া প্রেমিক রেজাউল করিম ওরফে রাজীবের উত্তর গোড়ানের ভাড়া বাসায়। পরদিন রাতেই জেনিফাকে খুন করা হয়। বলা হচ্ছে- সারাদিন লাশ রাখার পর ২৯শে জুলাই রাতে জানালা দিয়ে ফেলে পালিয়ে যায় রাজীব। ৪ঠা আগস্ট দুপুরে জেনিফার গলিত লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। ওইদিন শেষে রাতে নিহতের পিতা ফারুক গাজী বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় স্ত্রী হালিমা ও রাজীবকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। জেনিফার পিতা ফারুক গাজী বলেন, আমার মেয়ে কী দোষ করেছিল? তাকে কেন খুন করা হলো? হালিমা-রাজীবের বিয়েতে তো আমার মেয়ে বাধা দেয়নি। মেয়েকে আমার কাছে রেখে গেলে তো হারাতে হতো না। তিনি বলেন, আমার মেয়েকে যে-ই খুন করুক, তাদের ফাঁসি চাই। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখে যেন আর কোন মায়ের কাছে সন্তান অনিরাপদ না থাকে।
ঘটনাস্থল: রাজধানীর খিলগাঁও থানার উত্তর গোড়ানের সিপাহীবাগ মদনগলির ২৬৯ নম্বর ৫তলা বাড়ির মালিক আবুল বাসার। ৫ম তলার দুটি ফ্ল্যাট টিনশেড। উত্তরপাশের ফ্ল্যাটে চারটি রুম। বাড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত বশির আহম্মেদ বলেছেন, ২৭শে জুলাই সকালে ১০ হাজার টাকা চুক্তিতে ভাড়া নেয় রাজীব। ৫ হাজার টাকা অগ্রিম দেয়। এরপর দিনই হালিমা ইয়াসমিন ও জেনিফাকে বাসায় নিয়ে আসে।
প্রতিবেশীদের বর্ণনা: তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া বাড়ি মালিকের ভগ্নি জোসনা বিন তেনু বলেন, ২রা আগস্ট ভোরে আমার খালাত ভাই সোহেলের কাছে হালিমা এসে ২০০ টাকা ধার চায়। সে সময় হালিমা অস্বাভাবিক ছিল। সোহেল জানতে চায়, টাকা দিয়ে কি হবে? হালিমা বলেছিল, আমার স্বামী বাসায় নেই। মোবাইলে ফ্লেক্সি করবো। সোহেল টাকা না দিলে চলে যায় হালিমা। বাড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত বশির আহম্মেদ বলেন, মঙ্গলবার পাঁচতলার জানালায় হালিমাকে দেখার পর রাতে তার কাছে ভাড়ার জন্য যাই। হালিমা বলে আমার স্বামী (রাজীব) বাসায় নেই। তিনি এলেই ভাড়া দেয়া হবে। ওই রাতে ১১টার দিকে হালিমা একটি ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির লোকজন তাকে আটকায়। এরপর দিন সকালে ফ্ল্যাটে বৈদ্যুতিক কাজের জন্য গেলে জানালার বাইরে থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। বশির বলেন, আমি গ্রিলে উঁকি মেরে একটি বাচ্চার হাত দেখতে পাই। এর পরই পুলিশকে খবর দেয়া হয়। রং মিস্ত্রী আবদুল জলিল বলেন, এখানে রঙের কাজ করছি। ২৭শে জুলাই দুপুরে হালিমাকে আসতে দেখি। ২রা আগস্ট হালিমার ফ্ল্যাটে রান্না ঘরে রং করতে গিয়ে প্রচণ্ড গন্ধ পাই। এ নিয়ে হালিমাকে প্রশ্ন করলে সে বলে ইঁদুর মরেছে। আমরা দুর্গন্ধের জন্য কাজ না করে চলে আসি।
পুলিশের বক্তব্য: খিলগাঁও থানার অপারেশন অফিসার এসআই আসলাম হোসেন বলেন, তানহা ইসলাম জেনিফাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে মা হালিমা ইয়াসমিন ও তার দ্বিতীয় স্বামী রাজীবই জেনিফাকে হত্যা করেছে। ২৯শে জুলাই রাতে বাসার উত্তর পাশের জানালা দিয়ে লাশ ফেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। জেনিফার দেহ জানালার ফাঁক দিয়ে না ঢোকায় ধারাল বঁটি দিয়ে মাথার পাশে কাটা হয়। দেহ ভেঙে ছোট করে ফেলা হয় জানালা দিয়ে। লাশ উদ্ধারের সময় জানালায় মাথার ছোট চুল লেগে ছিল। একটি ধারাল বঁটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাতে মাথার চুল ও রক্ত জমাট বাঁধা ছিল। হালিমা পুলিশের কাছে বলেছেন, জেনিফাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে ওই ফ্ল্যাটে শুধু হালিমাকে নিয়ে থাকতে চেয়েছিল রাজীব। সবকিছু নতুন করে সাজাতে চেয়েছিল।
হালিমা ইয়াসমিন যা বললেন: হালিমা ইয়াসমিন খিলগাঁও পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর বলেন, শবেবরাতের পরের দিন ২৮শে জুলাই রাত দুটার দিকে রাজীব দই খেতে দেয়। রাজীব দইয়ের সঙ্গে ঘুমের বড়ি খাইয়ে দিলে অচেতন হয়ে পড়ি। পরদিন সকালে সংজ্ঞা ফেরার পর দেখি মেয়ে জেনিফা ঘুমিয়ে রয়েছে। মেয়েকে ঘুম থেকে উঠানোর চেষ্টা করি। ঘুম না ভাঙায় সন্দেহ হয়। রাজীবকে বলি, মেয়েকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে। একপর্যায়ে আবার অন্যমনস্ক হয়ে হালিমা বলেন, আমি বুঝতে পারি আমার মেয়ে মারা গেছে। রাজীবকে ফোন দিই। সে আসে সন্ধ্যায়। লাশ কি করবো ভেবে পাইনি। রাতে রাজীব জানালা দিয়ে লাশ ফেলে দেয়। রাজীবই জেনিফাকে খুন করেছে।
ফারুক গাজী যা বললেন: মিরপুর ১১ নম্বর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী ফারুক। একই এলাকায় স্ত্রী হালিমা, মেয়ে জেনিফা ও শ্যালক জুয়েলকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। ২৭শে জুলাই সকালে তিনি দোকানে যান। বেলা ১২টার দিকে তার স্ত্রী হালিমা তাকে ফোন দিয়ে জানান, বাসার চাবি জানালায় আছে। ফারুক জানতে চান, হালিমা কোথায় যাচ্ছো? এ সময় হালিমার উত্তর ছিল- জাহান্নামে যাচ্ছি। আর ফিরবো না। ফারুক বলেন, বাসায় ফিরে দেখি ১ লাখ টাকা, জমির দলিল ও সাড়ে সাত ভরি সোনার গহনা নেই। এসব নিয়ে সে পালিয়েছে। ২৮শে জুলাই পল্লবী থানায় একটি জিডি করি। ভাবতেও পারিনি হালিমা রাজীবের সঙ্গে চলে গেছে। আমরা খোঁজাখুঁজি করি তাকে। ৩রা আগস্ট হালিমা ফোন দিয়ে বলে, আমি বিপদে পড়েছি। জেনিফা মারা গেছে। আমি রাজীবকে বিয়ে করেছি। ফারুক বলেন, তখনই জানি রাজীবের কথা। এর আগে কখনও এ সম্পর্কের কথা জানতে পারিনি। দেড় বছর আগে রাজীব ও আমরা একই বাসায় ভাড়ায় থাকতাম। তখন থেকেই হয়তো ওদের সম্পর্ক। তবে কখনও বুঝতে পারিনি। তাছাড়া আমি দিনে বাসায় থাকতাম না। শ্যালক জুয়েল ও আমি দোকানদারি করতাম। রাতে বাসায় ফিরতাম।
হতভাগা তানহা

Monday, August 23, 2010

চক্রজাল ১: অস্পৃশ্য প্রপঞ্চ




নির্জনে শয়তানের উপাসনা
অস্পৃশ্য প্রপঞ্চ


১১ ই জুলাই ২০০৭। ট্রেনটি জগন্নাথগঞ্জঘাট থেকে ছুটে চলেছে। ট্রেন চালক আব্দুল মতিন অন্যদিনের মত স্বাভাবিকভাবে বসে আছেন। বেলা তিনটা পনেরো। ট্রেনটি ময়মনসিংহের কাশর পৌরসভা পার হচ্ছিল। হঠাৎ করে যা ঘটল আব্দুল মতিন তা আশা করে নি।  রেলপথের বাঁ পাশ থেকে নয়জন নারী-পুরুষ একে অন্যকে ধরাধরি করে রেলের দিকে আসতে লাগল। ট্রেন থামানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেন আব্দুল মতিন। কিন্তু ট্রেনটি যখন থেমেছে ততক্ষণে ট্রেনের চাকায় থেঁৎলে গেছে নয়জন আগন্তুক। রেল লাইনের ৩ কিলোমিটার জুরে ছড়িয়ে পড়ে খন্ড বিখন্ড লাশ আর রক্ত। ট্রেন চালক আব্দুল মতিন ট্রেন থেকে নেমেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।


পরদিন: প্রথম আলো রিপোর্ট

ময়মনসিংহ পৌরসভার কাশর এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা তিনটা ১৫ মিনিটের দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশের ধারণা, এরা একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছে। তবে কেন সবাই এভাবে আত্মহত্যা করেছে, সে ব্যাপারে পুলিশ বা এলাকার কেউ কিছু বলতে পারছে না।
পুলিশ জানায়, ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলো হেনা (৬০), তাঁর ছেলে আরিফ (২৫), রাহাত (২০), মেয়ে আখতারী (৪০), মোর্শেদা (২৬), শবনম (১৮), মবি (৩০) এবং মবির দুই সন্তান মৌ (৮) ও মাওলা (৯)। এলাকায় গিয়ে জানা যায়, এই পরিবারটির বাড়ি রেলপথের পাশেই। দুই দিন আগে বাঁশের বেড়া দিয়ে বাড়িটি ঘেরাও করে ফেলা হয়। এই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহলও ছিল। এরা এলাকাবাসীর সঙ্গে মিশত না। সমাজ থেকে তারা ছিল একরকম বিচ্ছিন্ন। তারা কোন ধর্মের অনুসারী ছিল এ ব্যাপারেও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, বেলা সোয়া তিনটার দিকে জামালপুর থেকে ময়মনসিংহের দিকে একটি ট্রেন আসছিল। ট্রেনটি ময়মনসিংহ পৌরসভার কাশর এলাকা পার হওয়ার সময় একটি বাসা থেকে নারী ও পুরুষ দলবেঁধে বের হয়ে আসে। এরপর সবাই একসঙ্গে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

ট্রেনের সহকারী চালক ছিলেন মো. এনায়েত হোসেন খান। তিনি বলেন, ২৫৪ ডাউন ট্রেনটি সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে জগন্নাথগঞ্জঘাট থেকে ছেড়ে আসে। তিনি কাশর এলাকায় যখন আসেন তখন সময় প্রায় বেলা তিনটা ১০ মিনিট। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ দেখতে পাই, রেলপথের বাঁ পাশ থেকে বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ একে অন্যকে ধরাধরি করে রেলের দিকে আসতে থাকে। প্রথমে কিছুই বুঝতে পারিনি।
এনায়েত আরও বলেন, ‘একেবারে কাছে চলে আসার পর বুঝতে পারি, তারা রেলে কাটা পড়তে যাচ্ছে। তখন রেলের গতি কমানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুরত্ব এত কম ছিল যে, কিছুই করার ছিল না।রেল বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, চোখের সামনে এমন মর্মান্তিক ঘটনা দেখে ট্রেনচালক আবদুল মতিন ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে এসে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।খবর পেয়ে হাজার হাজার মানুষ ঘটনাস্থল ও ওই বাড়িতে ভিড় করে। ওই বাড়ির ভেতর গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কেউই নেই। একটি পাকা ঘর। পাঁচ-ছয়টি কক্ষ। উঠানে কবরের মতো বড় একটি গর্ত খোঁড়া। বারান্দায় লাশ নেওয়ার খাট। রান্নাঘরে কাটা ছোট মাছ পড়ে আছে। তরিতরকারিও কেটেকুটে রাখা হয়েছে।

একই পরিবারের নয়জনের মৃত্যুর খবর শুনে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ বেশ কিছু ডায়েরি ও হাতে লেখা কাগজপত্র উদ্ধার করেছে। এগুলোর কিছু বাংলায় আবার কিছু ইংরেজিতে লেখা। এগুলোয় বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য ছিল।

ইংরেজিতে একটি ডায়েরিতে লেখা ছিল, ‘আমরা পৃথিবীর একমাত্র পরিবার যারা স্বাধীন ও আত্মনির্ভরশীল। মোহাম্মদের আইনের বাইরে এবং সব ধর্মের সব কার্যকলাপের বাইরে। তাহলে আমরা কে? আমরা হলাম আদম।

এ ছাড়া সবার উপরে আদম সত্য, জুলুমের বিচারের ব্যবস্থা করিবইত্যাদি ধরনের বেশ কিছু মন্তব্য ছিল। স্থানীয় লোকজন বলছে, পরিবারটি খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী। কিন্তু পুলিশ বাড়িতে এ রকম কোনো প্রমাণ পায়নি। খ্রিষ্ট ধর্ম কিংবা যিশুখ্রিষ্টের ওপর লেখা কোনো বই বাড়িটিতে পাওয়া যায়নি। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম ও জেলা প্রশাসক মো. শামসুল আলম মন্তব্য করেন, ঘটনা যেভাবেই ঘটুক, এটা খুবই রহস্যজনক। তদন্ত ছাড়া এই মুহুর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়। ওই পরিবারের জীবিত কাউকে পাওয়া যায়নি। আশপাশের লোকজনও তাদের ব্যাপারে কিছুই বলতে পারছে না। তবে পুলিশ সুপার বলেন, ‘এ পরিবারের সদস্যরা সম্পুর্ণ ব্যতিক্রম এক ধরনের ধর্মীয় ভাবধারায় বিশ্বাসী বলে মনে হচ্ছে। আমরা এ পর্যন্ত যেসব কাগজপত্র পেয়েছি, তাতে এটাই মনে হচ্ছে।

পুলিশ সুপার বলেন, এ ঘটনায় রেলওয়ের পুলিশ মামলা করবে।ময়মনসিংহ পৌরসভার স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার মোজাম্মেল হক ইউসুফ বলেন, এ পরিবারটির সঙ্গে এলাকার কারোর সম্পর্ক ছিল না। কেউ এ বাসায় আসত না। তারাও এলাকার কারও বাসায় যেত না। তিনি আরও বলেন, আশপাশের কোনো পরিবারের সঙ্গে তাদের খারাপ সম্পর্ক বা রেষারেষি ছিল না। স্থানীয় ফারুক হাসান বলেন, ট্রেনে কেটে মারা যাওয়া হেনার স্বামী আনোয়ার দরবেশ অনেক আগে মারা যান। আনোয়ার দরবেশও ছিলেন রহস্যময় এক মানুষ। তিনি বলেন,এলাকায় পরিবারটি একেবারে বিছিন্ন ছিল। এরা কোথাও যেত না।
 
ইত্তেফাক রিপোর্ট:

ময়মনসিংহ শহরতলী কাশর ইটখলা এলাকায় একই পরিবারের ৯ জন একসাথে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। গতকাল বুধবার বেলা ৩টা ১০ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে। চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি জানতে এবং তাদের লাশ এক নজর দেখতে আসা শত শত কৌতূহলি জনতার ভিড় সামলাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়। এই ঘটনার পরপর এই রেলপথে ট্রেন চলাচল সন্ধ্যা পর্যন্ত সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়ায় উভয় পথে যাতায়াতকারী একাধিক ট্রেনের যাত্রীসাধারণের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ডিসি মোঃ শামসুল আলম, এসপি মোঃ রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলা ৩টা ১০ মিনিটের দিকে শহরের কাশর ইটখলাস্থ নিজ বাড়ির সামনের রেলপথে জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ অভিমুখী জিএম এক্সপ্রেস নামের ২৫৪ নং একটি চলন্ত ট্রেনের নিচে মৃত আনোয়ার ফকিরের স্ত্রী হেনা আনোয়ার (৬০) পুত্র আরিফ আনোয়ার (৩০) ও রাহাত আনোয়ার (২২), কন্যা আক্তারী আনোয়ার (৩৫), মুর্শেদা আনোয়ার (২৭), মুন আনোয়ার (৩০) ও শবনম আনোয়ার (১৮), নাতি মৌলা আনোয়ার (৮) এবং নাতনী মৌ আনোয়ারকে (১০) সাথে নিয়ে একযোগে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে রেলপথের ৩ কিঃ মিঃ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে তাদের পড়ে থাকা লাশের একাধিক খণ্ডিত অংশ সংগ্রহ করে জিআরপি পুলিশ হেফাজতে নেয়।

চারদিকে বাঁশের বেড়া দেয়া একতলা দালানের এই বাড়ির এক পাশের উঠনের মধ্যে তারা একটি বিশাল আকৃতির কবর খুঁড়ে রাখেন। আর বাসার বারান্দায় পাওয়া যায় একটি লাশের কফিন। বাসার অভ্যন্তরের প্রতিটি কক্ষে ছিল সাজানো-গুছানো এবং পরিপাটি। ব্যবহার্য জিনিসপত্রগুলোও তারা রেখে গেছে সাজিয়ে-গুছিয়ে। এসব দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তারা তাদের এই আত্মহত্যার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন বেশ কদিন আগে থেকেই। পুলিশ বাসার অভ্যন্তর থেকে হাতের লেখা ৩টি ডায়েরি উদ্ধার করেছে।


এমন আরো অনেক ঘটনা জানতে নিয়মতি চোখ রাখুন:  www.chokrojal.tk